শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে শিবিরের কার্যক্রম স্তিমিত করা যাবে না : মহিউদ্দিন খান

ক্যাম্পাস বাংলাদেশ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সচেতনতা ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে (পলিটিক্যাল এজেন্সি) একটি মহল খাটো করে দেখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন খান।

আজ শনিবার (৬ জুন ২০২৬) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি বলেন, ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিনের অ্যাক্টিভিস্টদের একাংশ এমন একটি বিভ্রান্তিকর বয়ান ছড়ানোর চেষ্টা করছে যে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা নাকি স্রেফ ‘চমকানো কাজ’ দেখে অভিভূত হচ্ছে কিংবা ‘লোভে পড়ে’ ডাকসু নির্বাচনে শিবিরকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করছে।

মহিউদ্দিন খান বলেন, এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান শুধু শিবিরকে কোণঠাসা করার জন্য নয়, বরং এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিজস্ব রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ভালো-মন্দ যাচাইয়ের ক্ষমতাকে সরাসরি অস্বীকার করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক পার্থক্য তৈরি করতে অপারগ বলেই নাকি স্রেফ লোভের বশবর্তী হয়ে শিবিরের কল্যাণমূলক কাজকে সমর্থন দিচ্ছে।

এই ন্যারেটিভকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অবমাননাকর আখ্যা দিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, “শিক্ষার্থীরা ভালো করেই জানে যে, যাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি রয়েছে, তাদের মাধ্যমে কোনো প্রকৃত কল্যাণ সম্ভব নয়। একইভাবে যারা বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়ন চালায় কিংবা থানায় হামলার মতো ঘটনা ঘটায়, তাদের দ্বারা ক্যাম্পাসে কখনো সহনশীল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব না। শিক্ষার্থীদের এই রায় কোনো আবেগপ্রবণ বিষয় নয়, বরং এটি তাদের সচেতন রাজনৈতিক হিসাবনিকাশেরই ফল।”

এফবি পোস্টে ঢাবি শিবির সভাপতি সম্প্রতি শিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রথম বর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীর দেওয়া সাধারণ একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও তাদের সমর্থক গোষ্ঠীর আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে ‘নোংরামি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রীকে এক ধরনের মানসিক ট্রমার (আঘাত) মুখোমুখি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ‘তোমরা রাজনীতির কিছু বোঝো না, সব আমরা বুঝি’—এমন অভিভাবকত্বসুলভ অহংকার সাময়িক ট্রমা দিতে পারলেও তা স্থায়ী হবে না। দিনশেষে শিক্ষার্থীরা তাদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করবেই।

মহিউদ্দিন খান দাবি করেন, এই ধরনের অপপ্রচার ও ন্যারেটিভ ছড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিবিরের নিয়মিত শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা। যারা শিবিরের ইতিবাচক কাজ নিয়ে কথা বলতে চান, তাদের ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দেওয়ার একটি চেষ্টা চলছে, যাতে শিবিরের কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে যায়। তবে গত প্রায় দেড় বছর ধরে চলা এই ধরনের নেতিবাচক ও নোংরা প্রচারণা কোনো কাজে আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা বরাবরের মতোই ছাত্রশিবিরের কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।

ফেসবুক পোস্টে ঢাবি শিবিরের সভাপতি প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, সব বাধা ও অপপ্রচারের মুখেও ইসলামী ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সব নেতিবাচকতার জবাব শিবিরের ইতিবাচক কাজগুলোকে মূল্যায়ন ও এপ্রিশিয়েট করার মাধ্যমেই দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *