জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনে জয়লাভের পর বিএনপি বদলে গেছে। আমি যেমন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছেন। গণভোটের এই দাবি আমরা বলার আগে তাদের নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথমে দাবি জানিয়েছিলেন যে, গণভোটের মাধ্যমে এই সংস্কারের রায়কে আইনি বৈধতা দিতে হবে। আমরা সেটি সমর্থন করেছিলাম। ভোটের দিন পর্যন্ত আমাদের অবস্থান এক ছিল। কিন্তু ভোটের রেজাল্ট হওয়ার পর তারা বদলে গেছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর দক্ষিণ পীরেরবাগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান একথা বলেন।
সরকারি দলের দ্বিচারিতা প্রসঙ্গে অভিযোগ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে ম্যাকানিজমেই হোক, যখন তারা দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে, এরপরই তারা অতীতের সব ওয়াদা ভুলে গেছেন।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বিএনপির ৩১ দফার প্রথম দফাই হচ্ছে- তারা যদি সরকার গঠন করে, তাহলে তারা একটি সংস্কার কমিশন গঠন করে সংবিধানের ওইসব ধারাগুলো সংস্কার করবেন, যে ধারাগুলো অতীতে সরকারকে ফ্যাসিবাদী বানিয়েছে। কিন্তু আমরা এখন যখন সংস্কারের কথা বলি, সরকারি দল তখন বলে সংবিধানে কোনো সংস্কারের কথা নেই।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, জুলাই আজকের এই পরিবেশ আমাদের দিলো, যে জুলাই ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এনে দিলো, সেই জুলাই একসঙ্গে দু’টি নির্বাচন দিয়েছিল। একটি সংসদ নির্বাচন এবং অন্যটি গণভোটের নির্বাচন। দুই নির্বাচনেই জনগণ তাদের মূল্যবান রায় দিয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রথমটিতে যেভাবেই হোক একটি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং সরকার গঠন করেছে। কিন্তু গণভোটে সংস্কারের পক্ষে সংবিধানের যেসব আইনের কারণে এতদিন জনগণ অধিকার হারাচ্ছিল, ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল, সেই জায়গাগুলো পরিবর্তন করে ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ সংস্কার করার পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু এই গণভোটের গণরায় ইতোমধ্যে সরকারি দল অস্বীকার করেছে।
আমীরে জামায়াত বলেন, জনগণের অধিকারের চৌকিদারি করা, পাহারাদারি করা আমাদের দায়িত্ব। বিরোধী দলের দ্বারা জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয় না, লঙ্ঘিত হয় সরকারের দ্বারা। সরকার যদি কোনো জায়গায় জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করে, ইতিবাচকভাবে আমরা সেটি ধরিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করব।
তিনি বলেন, আমাদের সহযোগিতা যদি সরকার গ্রহণ করে আমরা তাদের ধন্যবাদ দেবো। আর যদি আমরা সহযোগিতার চেষ্টার পরও সরকার আমাদের সহযোগিতা গ্রহণ না করে, সংশোধন না হয়, মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষতি করতেই থাকে, তবে আমরা প্রতিবাদ করব। প্রয়োজনে প্রতিরোধ করব। এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

