দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সরকার নারী প্রধান পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করলো।

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে বাটন প্রেস করে এ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ভাতা পোঁছে গেছে কার্ড প্রাপ্ত নারীর হাতে। পরে অনুষ্ঠান মঞ্চে ১৭ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সাততলা বস্তিতে বাস করা ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্ত রিনা বেগম খুশিতে আবেগ আপ্লূত হয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। জীবনে স্বপ্নেও ভাবিনি এই কার্ড হাতে পাবো। এই টাকা দিয়ে আমার পরিবারের অনেক সাহায্য হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে। দেশের সর্বস্তরে আলোচিত হয়েছিল নারীর ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করেন।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ১৪ টি স্থানে এই পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।

এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বনানী টিএন্ডটি মাঠে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে কড়াইল ও এর আশপাশের এলাকায় ভোর থেকেই উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাভোগী নারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সকাল হওয়ার আগেই শত শত নারী কড়াইল বস্তি সংলগ্ন উদ্বোধনী এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন এই ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাওয়ার জন্য।

ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের শুভ সূচনার আগে কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন মাওলানা ইউসুফ আল মাদানী। এর পরে বিএনপি দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় ব্যাক-গ্রাউন্ডে বেজে ওঠে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ..জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ’, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ। ‘

পরে ‘সবার আগে স্বাবলম্বী পরিবার, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে তৈরি করা প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে দেখা যায় হতদরিদ্র পরিবারে এক নারীর অভাব আর সংগ্রামের নিদারুণ কষ্টের মাঝে স্বস্তির বার্তা নিয়ে হাজির হয় বিএনপি সরকারের দেয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’।

আজ মঙ্গলবার থেকে যেসব এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে সেগুলো হচ্ছে—রাজধানীর কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল বা শাহ আলীর ওয়ার্ড-৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি (ওয়ার্ড-১৪) এবং বাগানবাড়ি বস্তি এলাকা।

এছাড়া রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জেও এই পাইলট কর্মসূচি চালু হচ্ছে।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী বাছাই প্রক্রিয়া যেভাবে হয়েছে তা হলো- প্রাপ্ত তথ্য হতে ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি, পেনশন ইত্যাদি কারণে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়।

সমগ্র প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক মানের ভিত্তিতে সম্পন্ন করায় উপকারভোগী নির্বাচনে কোনোরূপ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের অবকাশ ছিল না।

এই ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। এ সময় তিনি অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য কেউ কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে তা বহাল থাকবে। বাসস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *