জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বর্তমান সরকারকে জুলাই আকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্যুতির জন্য কড়া বার্তা দিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) জাতীয় সংসদে ড. মাসুদ বলেন- জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা ফ্যামিলি কার্ড বা রাস্তা সংস্কারের জন্য রক্ত দেয়নি, তারা রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য জীবন দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার বিগত সরকারের মতোই উন্নয়নের কথা বলে জুলাইয়ের সেই আকাঙ্ক্ষা ও ‘জুলাই সনদ’ ভুলিয়ে দিতে বসেছে।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ আরো বলেন, আমরা লাইনে দাড়ি-কমা, সেমিকোলন খুঁজছি, অথচ মূল কাজ ফেলে রেখেছি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় ‘নেসেসিটি নৌজ নো ল’ (Necessity knows no law)। আমরা এই বাক্যটিকে আজ সংবিধানের ধারার মধ্যে আটকে ফেলেছি।
ড. মাসুদ রাজা-উজিরের বক্তব্যের শুরুতে এক রাজা ও তার নির্বোধ উজিরের গল্প টেনে আনেন বিরোধীদলীয় এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, উজিরকে কাজের তালিকা করে দিয়েছিলেন রাজা। একবার ঘোড়ায় ওঠার সময় রাজার পা রেকাবে আটকে গেলে তিনি উজিরকে সাহায্য করতে বলেন। কিন্তু উজির তার কাজের তালিকায় এই উদ্ধারের কথা লেখা না থাকায় রাজাকে সাহায্য করেননি। বর্তমান সংসদের অবস্থাও ওই উজিরের মতো হয়ে গেছে।
সরকার মূল কাজ থেকে সরে গেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর উন্নয়নের কথা বলে আমাদের নির্বাচনকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন আমরা দেখছি আমাদের নখের কালি শুকাতে না শুকাতেই উন্নয়নের কথা বলে আমরা আবার ‘জুলাই সনদ’টাকেই ভুলিয়ে দিতে বসেছি। আমাদের সন্তানেরা বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে, পা হারিয়ে, চোখ হারিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কি প্লাকার্ডে লিখেছিল যে, আমরা একটা ফ্যামিলি কার্ডের জন্য দাঁড়িয়েছি? তারা লিখেছিল— ‘রাস্তা সংস্কারের কাজ নয়, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে’।
সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আমরা সংস্কারের পরিবর্তে এখন সংশোধনীর দিকে যাচ্ছি। এই সংশোধনীর জন্য আমাদের তরুণ-যুবকেরা, আমাদের জনতা কাজ করেনি। সংশোধনীর জন্য তো শেখ হাসিনাও সেদিন বলেছিলেন ২৪ ঘণ্টা দরজা খোলা আছে। কিন্তু ছাত্র-জনতা সেই সংশোধন মেনে নেয়নি, তারা সংস্কার চেয়েছিল। অথচ আমরা আজ সংস্কারটা মাথায় নিতে পারছি না।
৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার করার কথা থাকলেও সরকার খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের ‘সবাই মিলে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় এই আইনপ্রণেতা বলেন, ১১টা সিটি কর্পোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক বদল হয়েছে। সবাই মিলে বাংলাদেশ হলে, সরকারি দলের বাইরে একজনও যোগ্য ও সৎ মানুষ কি খুঁজে পাওয়া গেল না? স্থানীয় সরকারে নির্বাচনের দিকে না গিয়ে তড়িঘড়ি করে নিজ দলীয় লোকদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটা কি সবাই মিলে বাংলাদেশ?”
সরকারি দলের বেঞ্চ (ট্রেজারি বেঞ্চ) থেকে জুলাই সনদের ভিত্তিতে নেওয়া শপথকে ‘অবৈধ’ বলার জবাবে ড. মাসুদ বলেন, এই অবৈধ কাজে আমাদের কারা সহযোগিতা করেছেন? এই অবৈধ প্ররোচনা আমাদের কে দিয়েছেন? জাতীয় সংসদে আমাদের কাছে কাগজ (শপথপত্র) প্লেস করেছে কে? যারা প্লেস করেছে, তাহলে তাদের তো আগে আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। আমি তো আর বাউফল থেকে সংস্কারের শপথের কাগজ পকেটে করে নিয়ে আসিনি।

