ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকেই দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ১৯৬৯ সালের আটই সেপ্টেম্বর ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন মোজতবা। তিনি খামেনির ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য বেশ কয়েকবার সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন। এরপর ১৯৯৯ সালে তিনি ধর্মীয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পবিত্র শহর কোমে যান, যা শিয়া ধর্মতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে, তিনি বেশিরভাগ সময়েই নিজেকে আড়ালে রেখে আসছিলেন। তিনি কখনও কোনো সরকারি পদে ছিলেন না এবং জনসমক্ষে কোনো বক্তৃতা বা সাক্ষাৎকারও দেননি। তার খুব অল্প সংখ্যক ছবি ও ভিডিওই বাইরে এসেছে।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবন ও কার্যালয় কম্পাউন্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কে এই মোজতবা খামেনি?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল, তার প্রভাবশালী ছেলে মোজতবা খামেনিও কি মারা গেছেন কি না।
কয়েক দিন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে মঙ্গলবার (তেসরা মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, মোজতবা জীবিত আছেন এবং “দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে পরামর্শ ও পর্যালোচনা” করছেন। তবে তিনি এখনো জনসমক্ষে হাজির হননি।
তবে বহুদিন ধরেই গুজব রয়েছে যে, তার বাবার কাছে যাওয়ার ‘গেটকিপার’ বা রক্ষক হিসেবে তার প্রভাব ছিল। ২০০০ দশকের শেষ দিকে উইকিলিকসে প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক বার্তায় তাকে ‘আড়ালের শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
অনেকের ধারণা, মোজতবা তার বাবার কঠোর নীতিগুলোই অব্যাহত রাখবেন। কেউ কেউ এটাও মনে করেন যে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় যিনি তার বাবা, মা ও স্ত্রীকে হারিয়েছেন, তিনি পশ্চিমা চাপের কাছে সহজে নতি স্বীকার করবেন না।
তবে তাকে কঠিন এক দায়িত্বের মুখোমুখি হতে হবে। জনগণকে তার বোঝাতে হবে যে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে বের করে আনার জন্য তিনিই সঠিক ব্যক্তি। সুত্র: বিবিসি

