বাংলাদেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক ৬ শীর্ষ মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার বিবৃতি প্রসঙ্গ উঠে এসেছে জাতিসংঘে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিককে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কথা তুলে ধরে এমন প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারি।
তিনি বলেন, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস এবং আইসিএইডিসহ এসব আন্তর্জাতিক সংগঠন বাংলাদেশে মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। শাসকগোষ্ঠী যখন নির্বাচনের নামে পুরো দেশকে জেলখানা বানিয়ে ফেলেছে তখন এ বিবৃতি দেয়া হয়েছে। আমি কি জানতে পারি বাংলাদেশের মৌলিক অধিকার এবং ভোটের অধিকার উদ্ধারে কি পদক্ষেপ নিচ্ছে জাতিসংঘ?
প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার এবং ভোটের অধিকার সম্পর্কে আমরা অব্যাহতভাবে যোগাযোগ রাখছি। অব্যাহতভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানাচ্ছি, যেন নির্বাচনে প্রতিজন বাংলাদেশি ভীতিমুক্ত অথবা অন্য কোনো পরিণতির আতঙ্ক ছাড়া ভোট দিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ৬টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন। বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং নাগরিক সমাজের স্থান সংকুচিত হয়ে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা।
সংগঠনগুলো হলো- রবার্ট এ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস (আরএফকেএইচআর), ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট জাস্টিস প্রজেক্ট (সিপিজেপি), দ্য ইউনাইটেড এগেইনস্ট টর্চার কনসোর্টিয়াম (ইউএটিসি), এশিয়ান ফেডারেশন এগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিজঅ্যাপেয়ান্সেস (এএফএডি), এন্টি-ডেথ পেনাল্টি এশিয়া নেটওয়ার্ক (এডিপিএএন) এবং ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন এগেইনস্ট এনফোর্সড ডিজঅ্যাপেয়ারেন্সেস (আইসিএইডি)।
এতে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে সব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, খেয়ালখুশিমতো আটক অধিকারকর্মী এবং বিরোধী দলীয় সদস্যদের মুক্তি দিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়া।

