পরিকল্পিত নগরায়ন ও সমন্বিত উন্নয়নের নতুন দিগন্ত দৃশ্যমান হবে: সিউক উদ্বোধনী সমাবেশে বানিজ্য মন্ত্রী মুক্তাদির

সাম্প্রতিক সিলেট
শেয়ার করুন

সাঈদ চৌধুরী :

শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরাণ (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত পুণ্যভূমি সিলেটে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছে ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’। পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন, সুষম অবকাঠামো তৈরি ও জনদুর্ভোগ নিরসনে সেবা প্রদানকারী সংস্থা সমূহের মধ্যে সমন্বিত কাজের ফলে নাগরিক সেবা দ্রুত, সহজ ও সাশ্রয়ী হবে- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’-সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে ও গোলাজার আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, অতীতে সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে আন্তঃসমন্বয় না থাকায় একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বারবার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, গ্যাস ও পানির পাইপলাইন কাটা এবং পুনরায় বসানোর মতো ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে নগরবাসীকে। এতে বারবার বাজেট ও সময়ের অপচয় ঘটেছে। এ ধরনের উন্নয়নজনিত জটিলতা বন্ধ করে পরিকল্পিত নকশা ও সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সিলেটের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই হবে সিউকের মূল লক্ষ্য। পরিকল্পিত নগরায়ন ও সমন্বিত উন্নয়নের নতুন দিগন্ত শিঘ্রই দৃশ্যমান হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) বেলা সাড়ে ১২টায় সিলেট নগরীর নাইওয়ারপুরস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এরপর সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সুধী সমাবেশ ।

বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির ঘোষণা দেন, আগামী শীতের শুরু থেকেই সিলেট বিভাগ ও নগরীর মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে। সিলেট বিভাগের চার জেলার প্রতিটি উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়নে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প সরকারের অনুমোদনের চূড়ান্ত অপেক্ষায় রয়েছে।

অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে ঢাকার নানা স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতার সমস্যা শুধু ঢাকাবাসীদের জন্য নয়, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে এটি চট্টগ্রামসহ সারা দেশের বড় বড় মেট্রোপলিটন শহরেও ইদানিং উদ্বেগজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতার সমস্যা প্রকট আকারে দৃশ্যমান হয় এবং গণমাধ্যম ফলাও করে প্রচার করা হয়। রাজধানীবাসী আবারো মারাত্মক জলাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছে, অবিরাম বৃষ্টিপাতে রাজধানীর বিভিন্ন অংশ ও প্রধান সড়কগুলের ডুবে যাওয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মূলত রাজধানীর বৃষ্টির পানি ঢাকা ওয়াসার খাল এবং নর্দমার লাইনের মাধ্যমে নদীতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও একদিকে নর্দমার পানি বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে এবং অন্যদিকে খালগুলের অবৈধভাবে দখলের কবলে চলে যাচ্ছে। ফলে ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ঢাকাবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী এবং যাতায়াতের পথে জীবন্ত মরণফাঁদ। এ কারণে প্রায়শই রিকশা, ভ্যান, সিএনজি, প্রাইভেট কার অতিরিক্ত জলাবদ্ধতার মধ্যে ম্যানহোলের গর্তে পড়ে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটছে।

সিলেট মহানগরে জলাবদ্ধতা নাগরিক জীবনকে বিষিয়ে তুলছে। দিনকে দিন এ সমস্যা আরো প্রকট হচ্ছে। এটাকে নগরীর প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী নিরসনে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানালেন বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির।

বানিজ্য মন্ত্রী আরো বলেছন, নগরবাসীর বিনোদন ও বায়ুমান নিশ্চিত করতে সিলেটের পুরাতন কারাগারের জায়গায় একটি দৃষ্টিনন্দন ও বিশাল পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা শহরের প্রধান ‘ফুসফুস’ ও পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি সিলেটকে মাস্টার প্ল্যানের আওতায় এনে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সিলেটের দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় টেকসই অবকাঠামো তৈরি করাই মূল লক্ষ্য। পাহাড়-টিলা ও জলাশয় রক্ষা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু, যানজট নিরসন এবং অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ রোধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ অপচয় ও পাচার হয়েছে। কিন্তু টেকসই নগরায়ন হয়নি। বর্তমানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভাগীয় শহরগুলোতে মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের কাজ সফলভাবে এগিয়ে চলছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি, সিলেট-২ আসনের এমপি তাহসিনা রূশদী লুনা, এমপি, সিলেট-৩ আসনের এমপি এম এ মালিক, এমপি, সিলেট-৬ আসনের এমপি এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, এসএমপি পুলিশ কমিশনার সরোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও জালালাবাদ গ্যাস লিমিটেডের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম। অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ অংশ গ্রহন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *