সাঈদ চৌধুরী :
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এক ব্যস্ত, তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয় দিন কাটালেন লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদ। বাংলাদেশ সফরের প্রথম দিনেই জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ ও প্রাণবন্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় উঠে আসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সাফল্য, ব্রিটিশ সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁদের অবদান, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং প্রবাসীদের সঙ্গে মাতৃভূমির গভীর আত্মিক বন্ধনের নানা প্রসঙ্গ।

১৫ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টায় নির্ধারিত এ সাক্ষাতের আয়োজন হয় ব্যারিস্টার নওফেল জামিরের আন্তরিক উদ্যোগে। স্বল্প সময়ের নোটিশে আয়োজন করা হলেও বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা ও অর্থবহ আলোচনায় সমৃদ্ধ এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতায়।
ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদের সঙ্গে এ সফরে যুক্তরাজ্য থেকে যোগ দেন তাঁর পেশাগত প্রতিষ্ঠান ল’ম্যাটিক সলিসিটর্সের প্রিয় সহকর্মী ব্যারিস্টার আরিফুল কবির চৌধুরী এবং স্পিকারস কনসর্ট ব্যারিস্টার আবু সাদাত সুহেল।
সফরের প্রথম দিনেই ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদের একটি সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠে তাঁর ব্যক্তিত্বের সহজ-সরল দিকটির অনন্য প্রকাশ। ঢাকায় অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর যাতায়াতের জন্য কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবস্থা করতে চাইলেও তিনি বেছে নেন সাধারণ একটি উবার।
কেন এই সিদ্ধান্ত? তাঁর ভাষ্য, রাজধানীর সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার কাছাকাছি থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। আর সেই চাওয়া থেকেই একজন জনপ্রতিনিধির পরিচিত আনুষ্ঠানিকতার বাইরে সাধারণ যাত্রীর মতোই সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু জাতীয় সংসদ ভবনের নিরাপত্তা চৌকিতে পৌঁছানোর পর তাঁর এই সাধারণ যাত্রাই তৈরি করে এক মজার ও স্মরণীয় পরিস্থিতি।
প্রবেশপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীকে তিনি জানান, তাঁর কাছে কোনো পাস নেই; তবে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক রয়েছে। অতিথি তালিকায় তাঁর নাম ও পদবি দেখে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ গাড়িটির সঙ্গে বিষয়টি মেলাতে কিছুটা বিস্মিত হন নিরাপত্তারক্ষী। নিশ্চিত হতে তিনি প্রশ্ন করেন, “আপনি কি টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার?”
ইতিবাচক উত্তর পেয়ে এবার তাঁর প্রশ্ন, “আপনার গাড়িটি কোথায়, স্যার?” ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদের সহজ উত্তর, “আমি উবারে এসেছি।” তাঁর বর্ণনায়, মুহূর্তের সেই নীরবতা ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বিস্ময় কাটিয়ে নিরাপত্তারক্ষী দ্রুতই আন্তরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। পরবর্তী নিরাপত্তা চৌকিগুলোতেও বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তাঁর প্রবেশে কোনো অসুবিধা না হয়।
একটি সাধারণ উবারযাত্রা থেকে শুরু হওয়া এই ছোট্ট ঘটনা তাঁর কাছে বাংলাদেশের মানুষের আন্তরিকতা, সৌজন্য ও আতিথেয়তার এক উজ্জ্বল স্মৃতি হয়ে থাকে।
নিরাপত্তার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে অতিথিদের নিয়ে যাওয়া হয় ডেপুটি স্পিকারের একান্ত সচিব মো. শাইফুল ইসলামের দপ্তরে। ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় জানা গেল, তাঁর মার্জিত ব্যক্তিত্ব ও আন্তরিক অভ্যর্থনা সফরের শুরুতেই এক উষ্ণ পরিবেশ তৈরি করে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের কারণে তাঁর সহকর্মীরা দুপুর ১টার কাছাকাছি সময়ে সেখানে পৌঁছান। অপেক্ষার সময় সংসদ ভবনের লবিতে গণমাধ্যম কর্মীদের ব্যস্ত কর্মতৎপরতা তাঁদের নজরে আসে। এরপর নির্ধারিত সময়ে তাঁরা প্রবেশ করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কক্ষে। প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি ছাড়িয়ে ডেপুটি স্পিকার নিজ আসন ছেড়ে এগিয়ে এসে অতিথিদের স্বাগত জানান। আন্তরিক করমর্দন ও কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাতের মূল পর্ব।
প্রাথমিক সৌজন্য বিনিময় ও গণমাধ্যমের উপস্থিতির পর আরও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরির জন্য সাংবাদিকদের কাছ থেকে কিছুটা একান্ত সময় চেয়ে নেন। এরপর প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে দুই দেশের মানুষের সম্পর্ক, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্জন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময়।
বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল যুক্তরাজ্যের সরকারি কর্মকাণ্ড, রাজনীতি ও সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের অবদানের প্রশংসা করেন। বিশেষভাবে উঠে আসে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, পরিশ্রম, সাফল্য ও ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রসঙ্গ।

জবাবে ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদ যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি অভিবাসীদের অগ্রজ প্রজন্মের ত্যাগ, সংগ্রাম ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করেন সেই প্রজন্মের মানুষদের, যাঁরা প্রতিকূলতা পেরিয়ে নতুন দেশে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নতুন প্রজন্মের শিক্ষা, পেশাগত সাফল্য এবং ব্রিটিশ সমাজ ও অর্থনীতিতে তাঁদের অবদানের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকারের বক্তব্যের মূল সুর ছিল- যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্ম নিজেদের যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু এই অগ্রযাত্রার মধ্যেও তারা ভুলে যায়নি নিজেদের শিকড়, পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি কিংবা বাংলাদেশের সঙ্গে গড়ে ওঠা গভীর আত্মিক সম্পর্ক।
আলোচনায় ব্যারিস্টার আরিফুল কবির চৌধুরী ও ব্যারিস্টার আবু সাদাত সোহেলের অংশগ্রহণও বৈঠককে সমৃদ্ধ করে। তাঁদের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গিতে দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়।
সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের নিদর্শন হিসেবে স্মারক ক্রেস্ট বিনিময় করা হয়। ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয় থেকেও অতিথিদের ফুলের তোড়া ও স্মারক ক্রেস্ট দিয়ে সম্মান জানানো হয়।
বিদায়ের সময় ডেপুটি স্পিকার তাঁর এক কর্মকর্তাকে উপহারগুলো গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা অতিথিদের সঙ্গে গাড়ি পর্যন্ত গিয়ে উপহারগুলো তাঁদের হাতে তুলে দেন।
আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের শেষে এমন ছোট ছোট সৌজন্য, যত্ন ও আন্তরিকতার প্রকাশ ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদের মনে বিশেষ ছাপ ফেলে। তাঁর কাছে এগুলো কেবল প্রটোকলের অংশ নয়; বরং মানুষের প্রতি মানুষের সম্মান ও আন্তরিকতারই প্রতিফলন।
সফরের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতায় ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদ মনে করেন, প্রকৃত কূটনীতির সৌন্দর্য শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠক, পদমর্যাদা কিংবা প্রটোকলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা, সৌজন্য এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের গভীরতায়।
জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে পাওয়া সম্মান ও আতিথেয়তা তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। সাধারণ উবারযাত্রা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা রক্ষীদের সহযোগিতা, আন্তরিক অভ্যর্থনা, সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা এবং বিদায়ের সময় উপহার পৌঁছে দেওয়ার মতো ছোট ছোট ঘটনায় তিনি বাংলাদেশের মানুষের উষ্ণ হৃদয়ের পরিচয় পেয়েছেন।
তাঁর এই অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দেয়, প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভৌগোলিকভাবে মাতৃভূমি থেকে দূরে থাকলেও হৃদয়ে বাংলাদেশকে ধারণ করেন গভীর ভালোবাসায়। যুক্তরাজ্যে তাঁদের শিক্ষা, পেশা, রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সাফল্য যেমন বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়, তেমনি মাতৃভূমির সঙ্গে তাঁদের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক দুই দেশের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে।
ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদের ঢাকা সফরের প্রথম দিনের এই সাক্ষাৎ তাই নিছক একটি সৌজন্য বৈঠকের বিবরণ নয়। এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্জন, বাংলাদেশের আতিথেয়তা এবং প্রজন্মান্তরে শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার এক অর্থবহ প্রতিচ্ছবি।
উল্লেখ্য, আইন পেশায় দক্ষতা, সমাজ সম্পর্কে গভীর পর্যবেক্ষণ এবং কমিউনিটির প্রতি দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদ যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। ২০২২ সালের মে মাসে টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিন ওয়েস্ট ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। ওই নির্বাচনে বারার বাংলাদেশি কাউন্সিলরদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে তিনি রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও যুক্ত হন তিনি। ২০২২ ও ২০২৩ সালে ওভারভিউ অ্যান্ড স্ক্রুটিনি কমিটির চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে, ২০২৪–২৫ সালে, জবস, স্কিলস অ্যান্ড গ্রোথ বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে কেবিনেট মেম্বার হিসেবে কাজ করেন।
কাউন্সিলর ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদ বর্তমানে লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার হিসেবে বারার প্রথম নাগরিক বা ‘ফার্স্ট সিটিজেন’ হিসেবে বিভিন্ন নাগরিক ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি কাউন্সিল সভায় সভাপতিত্ব করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের স্বাগত জানান এবং বারার প্রতিনিধিত্ব মূলক দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষাজীবনে মুস্তাক আহমদ টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজ ও কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে অধ্যয়নের পর তিনি ইউনিভার্সিটি অব ল থেকে এলএলবি অনার্স এবং বার-এট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ঐতিহ্যবাহী ইনার টেম্পল থেকে কল টু দ্য বার লাভ করেন। একই সময়ে তিনি ডিপ্লোমা ইন পাবলিক সার্ভিস ইন্টারপ্রিটেশন (DPSI), মেট্রোপলিটন পুলিশের ইন্টারপ্রিটেশন পরীক্ষা এবং ভাষাবিদ ইনস্টিটিউট থেকে অনুবাদে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা (DipTrans) সম্পন্ন করেন।

অভিবাসন আইনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদ আইন পেশায় সাফল্য অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটির অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত ল’ম্যাটিক সলিসিটর্সে সিভিল লিটিগেশন বিভাগের প্রধান হিসেবে আইনি সেবা দিচ্ছেন।
সিভিল আইনের জটিল বিষয়গুলো সহজভাবে অনুধাবন করা এবং পুলিশ স্টেশনে আটক ব্যক্তিদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। কমিউনিটির মানুষের প্রয়োজনে আইনি সহায়তা দিতে পারাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেন।
ইংরেজি, বাংলা, সিলেটি, উর্দু ও হিন্দি- এই পাঁচটি ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলার সক্ষমতা তাঁর পেশাগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছে। বহুভাষিক দক্ষতা, আইনি অভিজ্ঞতা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁকে বহুমাত্রিক ভূমিকা পালনের সুযোগ করে দিয়েছে।
ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদের পথচলা তাই কেবল একজন আইনজীবী কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাফল্যের গল্প নয়; এটি প্রবাসে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের শিক্ষা, পেশাগত অগ্রগতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মাতৃভূমির সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখারও একটি দৃষ্টান্ত।
ঢাকায় ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ সেই বৃহত্তর সম্পর্কেরই প্রতীক- যেখানে পেশাগত অর্জনের পাশাপাশি গুরুত্ব পায় বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা, প্রবাসী সমাজের অবদান এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার বন্ধন।
* সাঈদ চৌধুরী দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

