কারি শিল্পের তীব্র সংকট মোকাবেলার জন্য সরকারি রাজস্ব এবং হাজার হাজার মালিক ও শ্রমিকের স্বার্থ সুরক্ষায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিসিএ’র মতবিনিময়

প্রবাসী যুক্তরাজ্য সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

সাঈদ চৌধুরী

https://www.facebook.com/reel/1284033486865661

গ্রেট ব্রিটেনের প্রায় ১২ হাজার রেস্টুরেন্ট ও টেকওয়ে ব্যবসার মালিক প্রবাসী বাংলাদেশী। এই ১২ হাজার ব্যবসার প্রতিনিধিত্ব করে বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ)। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিসিএ ব্রিটেনের ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে মেজর স্টেকহোল্ডার (Major Stakeholder)। এই কারি ইন্ডাস্ট্রি দেশটির অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির অন্যতম স্তম্ভ। এদেশের হাজার হাজার মানুষের জীবিকা সরাসরি ফুড ইন্ডাস্ট্রির ওপর নির্ভরশীল।

ব্রিটেনের মাল্টি কালচারাল সোসাইটিতে রেস্টুরেন্ট হচ্ছে প্রথম এবং শীর্ষস্থান- যেটা সহজেই বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও ভাষার মানুষের সহাবস্থানের মেলবন্ধন সৃষ্টি করে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসব ও খাদ্যাভ্যাস একে অপরের সংস্কৃতিকেও করে চলেছে সমৃদ্ধ।

শতাব্দীকাল ধরে জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখা রেস্টুরেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এখন এক চরম সংকটকাল অতিক্রম করছে। কারি শিল্পের বহুমাত্রিক সংকট মোকাবেলায় গত বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) নেতারা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপিদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছিলেন।

এই শিল্পের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে ওয়েস্টমিনস্টারের পোর্টকুলিস হাউসে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিসিএর প্রেসিডেন্ট অলি খান এমবিই, জেনারেল সেক্রেটারি মিঠু চৌধুরী ও চিফ ট্রেজারার টিপু রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্রিটিশ এমপি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শিল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

সংসদীয় আলোচনায় অংশ নেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য কেভিন বোনাভিয়া এমপি, আপসানা বেগম এমপি, রূপা হক এমপি, রেচেল হপকিন্স এমপি, হাউস অব লর্ডসে একমাত্র বাংলাদেশী সদস্য ব্যারনেস মনজিলা পলা উদ্দিন, ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফিশ অ্যান্ড চিপস’র প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু ক্রুক, ন্যাশনাল ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি হেনরি পল্টনি, ব্রিটিশ কাবাব অ্যাওয়ার্ডসের প্রতিষ্ঠাতা ইব্রাহিম দোগুস।

আলোচনায় আরো ছিলেন কোবরার সামসন সুহেল, মাধুজ’র সানজে আনন্দ, বিসিএ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট এম এ মুনিম ওবিই, বিসিএ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট কামাল ইয়াকুব, বিবিসিসিআই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট বশির আহমদ, বিবিসিসিআই’র ডিরেক্টর মাহতাব মিয়া, ইউকে বিসিসিআই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট নাজমুল ইসলাম নুরু, বিসিএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়জুল হক, বিসিএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুরুক মিয়া, বিসিএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মানিক মিয়া, শেফ অনলাইনের সিইও এম এ মুনিম সালিক, ক্যাটারার্স মসুদ আহমদ, ক্যাটারার্স নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

সভায় বিসিএর প্রেসিডেন্ট অলি খান এমবিই বলেন, ব্রিটিশ কারি শিল্প যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বড় রকম অবদানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারি শিল্প ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের অধিক যোগান দেয়। তবে কারি শিল্পের বিদ্যমান সংকট মোকাবেলা না করলে অনেক ব্যবসা টিকে থাকা দুস্কর হবে। বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে। তাই, আমরা বিনীতভাবে আহ্বান জানাচ্ছি- সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে কারি শিল্পে ভ্যাট হার ও ইউটিলিটি চার্জ কমানো এবং মজুরি ব্যয় সাধ্যের মধ্যে আনার ব্যবস্থা করে রেষ্টুরেন্ট ও টেকওয়ের হাজার হাজার মালিক ও শ্রমিক ও সাপ্লাই চেইনকে রক্ষা করুন।

বিসিএর জেনারেল সেক্রেটারি মিঠু চৌধুরী বলেন, এই সংসদীয় আলোচনা সভার মাধ্যমে আমরা কারি শিল্পের সংকট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করছি। গ্রেট ব্রিটেনের সকল প্রান্ত থেকে কারি শিল্পের বিশিষ্ট নেতাদের একত্রিত করে নীতিনির্ধারকদের সাথে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট মোকাবেলায় কার্যকর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।

বিসিএর চিফ ট্রেজারার টিপু রহমান বলেন, ব্রিটিশ কারি শিল্প প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যুক্তরাজ্যের হসপিটালিটি খাতের মূল ভিত্তি। বিপুল কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে এই শিল্পের অবদান অপরিসীম। তবে ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়, কর্মী সংকট, ইউটিলিটি চার্জ-সহ আর্থিক চাপে এই খাত এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। আশা করি পার্লামেন্টে আলোচনা হলে সরকার তা গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করবে এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহন করা সহজ হবে।

* সাঈদ চৌধুরী- দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *