অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের সাথে যুক্তরাজ্য আইনজীবী ফোরামের প্রাণবন্ত মতবিনিময়

বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

সাঈদ চৌধুরী

লন্ডন সফররত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের সাথে ২০ জুলাই সোমবার যুক্তরাজ্য আইনজীবী ফোরামের মতবিনিময় সভায় “বাংলাদেশের বিচার বিভাগ, আইনের শাসনে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস এবং দেশের ভবিষ্যৎ” নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় প্রধান আলোচক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত আইনজীবীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রবাসী আইনজীবীদের পেশাগত সমৃদ্ধি ও গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা ও মুখ্য আইনি পরামর্শদাতা হিসেবে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যের স্বচ্ছতা সম্পর্কে আলোকপাত করে কোন মন্ত্রী বা সচিবের সাথে কোন রকম তদবির থেকে মুক্ত থাকার কথা দৃঢ়তার সাথে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বাংলাদেশে ডিসইনফরমেশন ও গুজব প্রসঙ্গে আলোচনা করে নানা সময়ে অপপ্রচার ও মিথ্যা প্রচার তীব্র জলোচ্ছ্বাসের আকার ধারণ করে বলে উল্লেখ করেন ব্যারিস্টার কাজল। তিনি সফলতার জন্য নিজের মাঝে পরিবর্তনের বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেন।

বৈশ্বিক মানদণ্ডে হাইটেক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিজিটাল সার্ভিসের দিক থেকে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বিলেতের বন্ধুদের মাধ্যমে কোন রকম বিনিময় ছাড়াই অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে এআই সংযুক্ত করে আধুনিক সাভির্স প্রদানে সচেষ্ট রয়েছেন।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। তখন ব্যারিস্টার হওয়ার পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান, মমতা ও সহায়তার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তিনি।
রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত স্বজনদের প্রশ্নের জবাবে আইন পেশাকে জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নেওয়া এবং বিলেতের কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে আইন পড়ে ব্যারিস্টার হওয়ার স্মৃতিচারণমূলক ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডনে কর্মকালীন কমিউনিটি সার্ভিস বিশেষ করে ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ নিয়ে প্রবাসীদের যথাযথ সেবা প্রদানে আন্তরিক প্রয়াসের কথা উল্লেখ করেন বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার ওয়াসিফুর রহমান তালুকদার, ব্যারিস্টার আবু ইলিয়াছ, ব্যারিস্টার আলিমুল হক লিটন, ব্যারিস্টার নজরুল হোসাইন, ব্যারিস্টার সোহরাব হোসেন, ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর আলম, ব্যারিস্টার নাসির খান অপু, ব্যারিস্টার সুবেহ সাদেক, সলিসিটর আবুল বাশার, ব্যারিস্টার সেলিম খান, ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন, ব্যারিস্টার কানিজ ফাতেমা, অ্যাডভোকেট রুকসানা আক্তারসহ আরো অনেকে।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী আইনজীবীরা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। বক্তারা এ ধরনের আলোচনা বিচার ব্যবস্থা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার আগে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস বিলেতে পড়ালেখা ও কূটনৈতিক পেশায় যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশে ফিরে তিনি বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ছিলেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

রুহুল কুদ্দুস কাজল ১৯৯৫ সালে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন । তারপর ২০২৩ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হন। তিনি ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স), ১৯৯৪ সালে এলএলএম করেন। ২০০৫ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৬ সালে লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। ২০০৬ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার অ্যাট ল সনদ অর্জন করেন।

* সাঈদ চৌধুরী- দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক See less

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *