স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচার আড়ালে প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একটি মামলার তদন্তের সূত্রে তাঁকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানিয়েছিল। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই ডিবি তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
সিআইডির করা মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালানের মাধ্যমে কেনাবেচা করে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা অর্থপাচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গুলশান থানায় মামলা করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহের উৎস এবং সরবরাহকারীদের দেওয়া নথিপত্রের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব ও বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে তৎকালীন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল। ওই রাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয়েও অভিযান চালানো হয়।
পরবর্তী সময়ে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকার বাড্ডায় কিশোর হৃদয় আহমদ হত্যার ঘটনায় করা মামলাতেও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সিআইডির মামলার সূত্রে নতুন করে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের আর্থিক লেনদেন এবং স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহের উৎস নিয়ে তদন্তের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। তবে নতুন করে গ্রেপ্তারের পর তদন্তের পরবর্তী ধাপ, মামলার বিস্তারিত তথ্য এবং আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ছবি:বাসস

