একটি ছবি শুধু ছবি নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য বিরাট আশা ও সম্ভাবনার আলোকবর্তিকা! প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্য ২০২৬ হোক স্বপ্নের বাস্তবতা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের বছর। আমীন।

২০২৫ বিদায় নিলো হারানোর এক বিশাল বেদনার ছাপ রেখে। জাতি এক মাতৃতূল্য অভিভাবককে হারিয়ে শোকে বিহ্বল। কিন্তু তাঁর জানাজায় মত-পথ ও দলের গন্ডি ভেদ করে লাখ মানুষের অংশ গ্রহন ও সম্মিলিত দোয়া একটি ঐক্যবদ্ব ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। মহান আল্লাহ তাঁর দেশপ্রেম ও মহানুভবতার পুরস্কার স্বরুপ তাঁকে জান্নাতে উত্তম মর্যাদার আসনে আসীন করুন, আমীন।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শোক জাতিকে যে ঐক্য ও সম্প্রীতি উপহার দিয়েছে তা বাংলাদেশের উজ্বল ভবিষ্যত রচনায় এক অনন্য মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে। তাঁর রেখে যাওয়া ঐক্য ও সম্প্রীতির পথ ধরে আগামীর বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, হিংসামুক্ত সম্প্রীতির বাংলাদেশ, বৈষম্য মুক্ত সাম্যের বাংলাদেশ, সন্ত্রাস মুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ, মানবিক মর্যাদাপূর্ণ পারস্পরিক সম্মান বোধের বাংলাদেশ। উপরের ছবিটি সে অপার সম্ভাবনার কথা বলে। মানবিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক মর্যাদাবোধ ও গনতান্ত্রীক সৌন্দর্যের কথা বলে।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য কেবল নির্বাচন বা প্রতিষ্ঠানগত কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি যৌথ নৈতিক চেতনা ও মূল্যবোধে নিহিত, যা একটি দেশের নাগরিকদের একসূত্রে আবদ্ধ করে। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যেখানে মতাদর্শ, বিশ্বাস, মত ও পরিচয়ের ভিন্নতা ভয়ের কারণ নয়, বরং সম্মিলিত শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই শক্তি টিকে থাকে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদাবোধের উপর, যা জনজীবনের সততা এবং একে অপরের প্রতি ও সামষ্টিক কল্যাণের প্রতি নাগরিক ও নেতাদের নৈতিক দায়িত্বকে প্রতিফলিত করে। একই সঙ্গে সহমর্মিতা গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য উপাদান। এটি গণতন্ত্রকে মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত রাখে এবং দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের কষ্টের প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে।

এ উপাদান জনগন ও নেতৃত্বকে শুধু আইনের সীমার মধ্যেই রাখেনা বরং একই সাথে ন্যায়বিচারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাখে। যখন সংলাপে শ্রদ্ধা, আচরণে সম্মান এবং নীতিনির্ধারণে সহমর্মিতা স্থান পায়, তখন গণতন্ত্র কেবল শাসনব্যবস্থা হিসেবে কাজ করেনা বরং তা হয়ে ওঠে যৌথ মর্যাদা ও আশার এক জীবন্ত প্রকাশ।
একটি দেশের গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব, অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনুপ্রেরণার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দুই নেতার মধ্যে কার্যকর ও সম্মানজনক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিন্নমত ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সংলাপ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে সুদৃঢ় করে, সংঘাত কমায় এবং জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়।

এমন যোগাযোগ নেতৃত্বে পরিপক্বতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করে, যা জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। পাশাপাশি, প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সহনশীলতা, শ্রদ্ধা ও মতভিন্নতা স্বত্বেও সহযোগিতার আদর্শ তুলে ধরে।

এর মাধ্যমে রাজনীতি বিভাজনের প্রতীক না হয়ে জাতি গঠনের অনুপ্রেরণায় রূপ নেয়, যা একটি আদর্শ, গতিশীল ও টেকসই গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করে। আমার বিশ্বাস বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের আজকের এ সম্প্রীতিপূর্ণ মিটিং বাংলাদেশ একটি টেকসই ও প্রেরণাদায়ক গণতন্ত্র প্রতিষ্টা করতে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করবে ইন্শাআল্লাহ।
যে দেশে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক নেতাদের মুখোমুখি হওয়াতো দূরের কথা বরং একজন আরেকজনের নামও শুনতে পারতনা, রাজনৈতিক মত পার্থক্যের কারনে হত্যা, জেল, জুলুম ও আপন নিবাস থেকে বিতাড়নের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক রাজনৈতিক কালচারে পরিণত হয়েছিল, সেদেশে দুইটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক নেতৃত্বের আন্তরিক আলীংগন, মর্যাদাপূর্ণ মিটিং এবং সম্মানজনক প্রেস ব্রিফিং এক অপার সম্ভাবনার দ্বারকে উন্মোচিত করেছে।
এতে প্রমাণিত হয় ইনসাফ ও গণতন্ত্রের জন্য ঐক্যবদ্ব জাতির সম্মিলিত ত্যাগ কখনও বৃথা যায়না। শহীদ আজম, নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদী, জামান, মোল্লা, কাশেম, আবু সাঈদ, মুগ্দ্ব, আবরার সহ হাজার শহীদের রক্ত কথা বলছে, শহীদ হাদীর রক্ত পথ দেখাচ্ছে।

মরহুমা খালেদা জিয়ার ত্যাগ প্রেরণা যোগাচ্ছে। এ প্রেরণা অবিনশ্বর হোক, এ চেতনা জাগরুক থাকুক। এটিই হোক ২০২৬ এর প্রার্থনা এবং প্রতিশ্রুতি। ধন্যবাদ জনাব ডা. শফিকুর রহমান এবং জনাব তারেক রহমানকে, জাতিকে নতুন বছরের সূচনাতে এমন প্রত্যাশিত মননশীলতা উপহার দেওয়ার জন্য। মহান আল্লাহ নতুন বছরের সূচনায় রচিত এই অনুপম ঐক্যকে চিরঞ্জীব রাখুন। আমীন।
* ব্যারিস্টার হামিদ হোসাইন আজাদ এমসিএ’র কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট, খ্যাতিমান আইনজীবী ও মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব

