দেশে জ্বালানি সঙ্কটের জন্য সিন্ডিকেটই মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান। আর এ সিন্ডিকেটের জন্য তিনি সরকারি দলকে দায়ী করেছেন। জ্বালানি তেল নিয়ে বকবাজি সম্পর্কে সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, তেল আছে শুধু সংসদে। সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাব : উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে অ্যাগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এএফবি)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এএফবি সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ টি এম মাহবুব ই ইলাহী (তাওহীদ)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনের মহাসচিব কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মাসউদ।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও কৃষকরা আজ অবহেলিত। দেশে তেলের অভাব নেই, কিন্তু তেল সিন্ডিকেটের কবলে। বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২.৫ থেকে ৩ গুণ বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। এই বড় বড় সিন্ডিকেটের পেছনে সরাসরি সরকারি দলের মদদ রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষিতে ব্যবহৃত হয়। অথচ নীতি নির্ধারকরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণভোমরা হলো গবেষণা, কিন্তু সেখানেও আজ গোঁজামিল দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। যোগ্য মানুষকে সঠিক জায়গায় না বসালে এই সঙ্কট থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।’
আমীরে জামায়াত দেশের ‘ভাগ্য পরিবর্তনে’ কৃষি নির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল খাতের উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জোর দেয়ার আহ্বান জানান।
অন্যায় ও অনাচার থেকে নিভৃত থাকার আহ্বান জানিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, অতীত থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। পাপ তার বাপকেও ছাড়ে না। ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয়, এইজন্য সমাজকে আর দেখেনা। আসুন আমরা ট্রান্সপারেন্সি গ্লাস দিয়ে সমাজটাকে দেখি। সমাজের মানুষের হাহাকার বোঝার চেষ্টা করি। তিনি স্বনির্ভর জাতি গঠনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিদেশি ঋণ আর সহায়তা এই জাতিকে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে দেবে না।
সেমিনারে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকার যদি জনগণের স্বার্থে এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে, তবে সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করবে। কিন্তু দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষিকে ধ্বংস করা হলে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তারা অবিলম্বে কৃষি খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং বাজার থেকে সিন্ডিকেট নির্মূল করার দাবি জানান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষক কৃষিবিদ ড. মো: মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশে জ্বালানি আমদানিতে এক শ্রেণির মানুষের বাণিজ্যিক মুনাফা বেশি, তাই স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অনীহা দেখা যায়। মাত্র একটি রিফাইনারি দিয়ে দেশ চলছে। অথচ কৃষি খাতে প্রতিদিন ১০-২০ হাজার লিটার জ্বালানির চাহিদা রয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে কৃষকরা সময়মতো জ্বালানি পাচ্ছে না, যার প্রভাব সরাসরি বোরো আবাদে পড়ছে।’

