বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১ টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি’র সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত মি. ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি (H.E. Dr. Jalil Rahimi Jahanabadi) এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের ফার্স্ট কাউন্সেলর মি. এসরাফিল আমিরি গোরজাদ্দিনি (Mr. Esrafil Amiri Gorzaddini), ইরান কালচারাল কাউন্সেলর মি. মাহদি মোলারস (Mr. Mahdi Molars) এবং মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স অফিসার (দোভাষী) মি. মাহফুজুল হক (Mr. Mahfuzul Haque)।

সাক্ষাতে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎটি অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উষ্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিনিময়, স্বাস্থ্যসেবা এবং মুসলিম বিশ্বের সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সাফল্য ও ডা. শফিকুর রহমানের বিরোধী দলীয় নেতা হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি, আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের গঠনমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজেরও প্রশংসা করা হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত ইরানের সকল নাগরিকদের জন্য দুঃখ ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন। এই যুদ্ধে জানমালের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতিতেও তিনি শোক প্রকাশ করেন। জামায়াতের আমীর এসময় নিহত সকলের মাগফিরাত কামনা করেন।

বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে এসময় যুদ্ধ বিরতি ত্বরান্বিত করার স্বার্থে শান্তি চুক্তি সাক্ষর করায় ইরানকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয় এবং শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ইরানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। সেই সাথে এ চুক্তি কার্যকর থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

ইরান আগামী দিনগুলোতে প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এবং ইরান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো সমৃদ্ধ ও উন্নত হবে বলেও বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দু’পক্ষ এসময় পার্লামেন্টারী ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠন, তেহরান-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট, মেডিকেল টুরিজম নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিশ্বমানের একটি হাসপাতাল চালু করার প্রস্তাব দেন।

ইরানের মান্যবর রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও ইরানের বিদ্যমান সুসম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ইরানের আগ্রহ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইরান সরকারের সদিচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *