বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানালেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। তারেক রহমান আমীরে জামায়াতের বাসায় গেলে তাঁকে জামায়াতের পক্ষ থেকে অগ্রিম অভিনন্দন জানানো হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনে জয় লাভ করে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে জামায়াতে ইসলামী। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি চেয়ারম্যান আজ রোববার সন্ধ্যায় আমীরে জামায়াতের বসুন্ধরার বাসায় যান। সেখানে পরস্পর কুশল বিনিময়ের পর উভয় নেতা বেশ কিছু সময় মুক্ত আলোচনা করেন।

তারেক রহমান বিজয়ী দলের প্রধান হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বি দলের প্রধান ও বিরোধী দলের নেতার বাসায় সৌজন্য সাক্ষাতে গেলেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন মাত্রা। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জাতিগঠনে ঐক্যবদ্ধ অবদান রাখার প্রয়াস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। দেশের অগ্রযাত্রায় নান্দনিকতা সৃষ্টির প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।

এদিকে ডা. শফিকুর রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে লেখেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি)-র চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি আজ আমার আবাসিক কার্যালয়ে এসেছিলেন। তার এই আগমন আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি তার এই আগমনকে স্বাগত জানাই এবং প্রত্যাশা রাখি, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।
সহিংসতা বন্ধে তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে আমীরে জামায়াত বলেন, আমি এমন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১-দলীয় জোটের সাথে মিলে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। আমাদের আলোচনায় তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা রোধে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। আমি এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের প্রত্যাশা, কোনো নাগরিকই যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হয়।

আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালনে দৃঢ়তার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে আমরা নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবো, তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আমরা আপসহীন থাকবো। সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে আমাদের সমর্থন থাকবে, কিন্তু যেখানেই জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে, সেখানে আমরা সোচ্চার থাকবো। আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয় বরং সংশোধন; বাধা দেওয়া নয় বরং পর্যবেক্ষণ। দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে এবং স্থিতিশীলতার সাথে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
* সাঈদ চৌধুরী দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

