মুহাম্মদ আরেফিন
ঢাকা সিটিতে জামায়াত জোট পেয়েছে ৭টি আসন, আর বিএনপি জোট পেয়েছে ৮টি আসন। মোট ভোটের ব্যবধান মাত্র ৫৬,০৮০ (ছাপ্পান্ন হাজার আশি)। জামায়াত জোটের প্রাপ্ত ভোট: ১২,০১,২৯২ বিএনপি জোটের প্রাপ্ত ভোট: ১২,৫৭,৩৭২ অর্থাৎ ব্যবধান খুবই সামান্য — কিন্তু রাজনৈতিক বার্তাটি গভীর। এটি স্পষ্ট করে যে নগর রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান এখন আর উপেক্ষণীয় নয়, বরং সম্ভাবনাময় ও প্রভাবশালী।

ঢাকা-৮, ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৭ আসনে ফলাফল ভিন্ন হলে সমীকরণ আরও পাল্টে যেতে পারত।এই আসনগুলোতে প্রশ্ন ও বিতর্কের অবকাশ রয়ে গেছে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে এটা স্পষ্ট!
সবমিলিয়ে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট উল্লেখযোগ্য ও শক্তিশালী ফলাফল অর্জন করেছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—১৯৯৬ সালের পর এবারই সর্বোচ্চ আসন নিয়ে বিরোধী দল গঠিত হচ্ছে। ২০০১ সালে বিরোধী দল পেয়েছিল ৬২টি আসন। ২০০৮ সালে বিরোধী দল পেয়েছিল ৩০টি আসন। ২০২৬ সালে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত পেয়েছে ৬৮টি আসন।

এই ফলাফল একটি শক্তিশালী বিরোধী রাজনীতির উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে রয়েছে এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আসন সমূহ — যা সংসদে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর বিরোধী অবস্থান তৈরির ইঙ্গিত দেয়। নগর থেকে জাতীয় রাজনীতি— দুই ক্ষেত্রেই একটি নতুন সমীকরণের সূচনা হলো।

