কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত তালিকায় বাংলাদেশের আহমেদ ফাহমি

আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও কমিউনিটি উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এর চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ সংগঠক আহমেদ ফাহমি। এশিয়া অঞ্চল থেকে যে কয়জন তরুণ এই সম্মানজনক তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন, ফাহমি তাদের মধ্যে অন্যতম।

কমনওয়েলথ সচিবালয় থেকে গতকাল (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৫৬টি সদস্য রাষ্ট্রের ৯৭৭ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই করে পাঁচটি অঞ্চলের মোট ২০ জন তরুণকে চূড়ান্ত প্রতিযোগী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৫৭ জন আন্তর্জাতিক বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্যানেল দুই ধাপের কঠোর বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুত করেন। প্রতিযোগীদের উদ্যোগগুলোর প্রভাব, স্থায়িত্ব ও জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) সঙ্গে সামঞ্জস্য বিবেচনা করে এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

আহমেদ ফাহমি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’-এর নির্বাহী পরিচালক। তিনি মূলত ‘প্রজেক্ট অক্সিজেন’ নামক একটি জাতীয় পর্যায়ের উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা করা ও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।

কমনওয়েলথ সচিবালয় জানিয়েছে, প্রজেক্ট অক্সিজেনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত দেশের উপকূল ও জলবায়ু-আক্রান্ত এলাকায় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬০০টির বেশি গাছ লাগানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে ৫ লাখেরও বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও লবণাক্ততার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জীবিকা উন্নয়ন, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয়দের দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

চূড়ান্ত তালিকাভুক্তদের অভিনন্দন জানিয়ে কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে বলেন, ‘তরুণদের হাতেই ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব রয়েছে। আর তাই দারিদ্র্য দূর করা, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ও মানবিক উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বমঞ্চে তরুণদের এই সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে কমনওয়েলথ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

কমনওয়েলথ সচিবালয় জানিয়েছে, আগামী ১১ মার্চ লন্ডনের মার্লবোরো হাউসে কমনওয়েলথ সচিবালয়ের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। কমনওয়েলথ দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানটি ইউটিউব ও ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পুরস্কার হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় থাকা প্রত্যেকে ১ হাজার পাউন্ড অনুদান, ট্রফি ও সনদ পাবেন। আঞ্চলিক বিজয়ীরা পাবেন আরও ২ হাজার পাউন্ড। এছাড়া সামগ্রিকভাবে নির্বাচিত ‘কমনওয়েলথ ইয়াং পারসন অব দ্য ইয়ার’ পাবেন মোট ৫ হাজার পাউন্ড।

উল্লেখ্য, ‘কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডস’ মূলত তরুণ সমাজকর্মী, পরিবেশকর্মী, উদ্ভাবক ও স্বাস্থ্য খাতের নেতাদের অসামান্য অবদানকে সম্মানিত করে। নিজ নিজ কমিউনিটিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই এই পুরস্কারের মূল লক্ষ্য।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই উদ্যোগ তরুণদের আন্তর্জাতিক পরিচিতি, বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে তুলছে। বাসস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *