বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বলেছেন, ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চকসু ও জকসু নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ শাকসু নির্বাচন বানচাল করতে না পেরে হাইকোর্টকে ব্যবহার করে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এদেশের ছাত্রসমাজ সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে শাকসু নির্বাচন আদায় করে নেবে, ইনশাআল্লাহ।
শিবির নেতা আমিরুল ইসলাম সোমবার (১৯ জানুয়ারী) বিকেলে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
বেলা ৩টায় নগরীর বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে চৌহাট্টায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি শাহীন আহমদের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি শহীদুল ইসলাম সাজু’র সঞ্চালনায় মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ ও সিলেট জেলা পশ্চিমের সভাপতি আবু জুবায়ের।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিরুল ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি ও ছাত্রদল ফ্যাসিবাদী মানসিকতা ধারণ করতে চায়। আমরা তাদের স্পষ্টভাবে বলতে চাই— এদেশের ছাত্রসমাজ জানে কীভাবে ফ্যাসিবাদকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করতে হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শরীফ মাহমুদ বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর আমরা আশা করেছিলাম দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অস্ত্রের ঝনঝনানি থেকে মুক্ত হবে এবং ছাত্রদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। কিন্তু ডাকসুসহ যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে।
তিনি আরও বলেন, শাকসু নির্বাচন বন্ধ করতে বিএনপি-ছাত্রদল নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে হাইকোর্টে রিট করে নির্বাচন স্থগিত করেছে, যা সিলেটের মানুষ কখনো মেনে নেবে না।

সভাপতির বক্তব্যে শাহীন আহমদ বলেন, একটি দেশবিরোধী শক্তি ছাত্রসংসদ নির্বাচনকে ভয় পেয়ে হাইকোর্টে রিট করে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করেছে। আমরা তা কখনো মেনে নেব না।
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছাত্রসংসদ নির্বাচন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার। প্রশাসন কোনো পক্ষের তাবেদারি করলে ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সেই অধিকার আদায় করে নেবে, ইনশাআল্লাহ।
বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সহস্রাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

