সিলেটে লন্ডন প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফিকে (৫৯) আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। একইসঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া শাখা থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মামলার প্রধান আসামি জকিগঞ্জের বাসিন্দা সাব্বির আহমেদকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল শনিবার ২ নম্বর আসামি সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ ওরফে শোভনকে (২০) নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিনে অপর আসামি তাহিরুল হককে (২০) গ্রেপ্তার করা হয় তার শ্বশুরবাড়ি লালাগ্রাম থেকে। এ সময় তাহিরুলের কাছ থেকে নিহত শফির ব্যবহৃত সেই মোটরসাইকেলও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের মাসেরচক হাওর বিলপাড় থেকে বোরহান উদ্দীন শফির সম্পূর্ণ আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই বিষয়ে জকিগঞ্জ থানায় দুদিন পর মামলা করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটি পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সাব্বির ও শোভন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রথমিক তদন্তে জানা যায়, মূলত ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জের ধরে শফিকে হত্যা করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আলামত জব্দ ও আসামি গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শফি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা হলেও তিনি সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার ৩৪/৪১ নম্বর বাসায় বসবাস করতেন।
নিহত শফি লন্ডন প্রবাসী ছিলেন। তিনি গত ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে কুলাউড়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় স্বজনরা সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি মাসেরচক হাওর বিলপাড় থেকে তার আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইউএনবি

