ডোনাল্ড ট্রাম্প ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, তিনি চাইলে ইরানের তেল দখল করতে পারেন এবং দেশটির বড় তেল কেন্দ্র খারগ দ্বীপও দখল করতে পারেন।
“সত্যি বলতে, আমি ইরানের তেল নিয়ে নিতে চাই। কিন্তু আমেরিকায় কিছু লোক বলে— এটা কেন করছি। তারা বোকা,” বলেছেন তিনি।
তিনি খারগ দ্বীপ দখল করা হতে পারেও ইঙ্গিত দেন। “হয়তো আমরা খার্গ দ্বীপ নেব, হয়তো নেব না। আমাদের অনেক বিকল্প আছে। তবে নিলে কিছুদিন সেখানে থাকতে হবে।”
“আমার মনে হয় তাদের তেমন কোনো প্রতিরক্ষা নেই। আমরা খুব সহজেই দখল করতে পারব।”
এদিকে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই আরও সাড়ে তিন হাজার মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, কারণ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার আশঙ্কা আছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে দ্রুত যুদ্ধবিরতি হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। “একটি চুক্তি দ্রুতই হতে পারে,” বলেছেন তিনি।
‘কেন খারগ দ্বীপ দখলের চিন্তা’
যুক্তরাষ্ট্র খারগ দ্বীপে নজর দিয়েছে কারণ এটি ইরানের সবচেয়ে বড় তেল টার্মিনাল, যা ইরানের অর্থনীতির লাইফ লাইন। দ্বীপটি দখল করলে শুধু ইরানের তেল রফতানি বন্ধ হবে না, বরং এখান থেকে ইরানের মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগও পাওয়া যাবে।
বিবিসির সিকিউরিটি ব্রিফের নিরাপত্তা বিশ্লেষক মিকি কে বলেন, দ্বীপটি দখল করলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর এর প্রধান একটি আয়ের উৎস বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, যা তাদের যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করবে।
স্কুল অব ওয়ার পডকাস্টের উপস্থাপক এবং সিবিএস- এর জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যারন ম্যাকলিন বলেন, দ্বীপটি দখলের জন্য যে কোনো মার্কিন অভিযান তুলনামূলকভাবে ছোট হবে, কিন্তু এটি হবে চ্যালেঞ্জিং।
অন্যদিকে, এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মি. ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন করতে পেরেছে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে তিনি বলেছেন, “আপনি বলতে পারেন যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কারণ তাদের (আগের নেতাদের) হত্যা করা হয়েছে”।
মি. ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানে বলেন, সরকার পরিবর্তন হয়েছে কারণ আগের সরকার প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের নেতারা মারা গেছে। নতুন যারা এসেছে, তাদের অনেকে মারা গেছে। “এখন একেবারে ভিন্ন ধরনের লোকজন পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। আমি এটাকেই সরকার পরিবর্তন মনে করি।
ট্রাম্প দাবি করে দাবি করেন, “যে সরকারটা খুব খারাপ ছিল, সেটা শেষ হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দলও প্রায় নেই। তারা সবাই মারা গেছে, শুধু একজন হয়তো বেঁচে আছে।” তিনি বলেন, ইরান সম্ভবত আমেরিকার সঙ্গে একটি চুক্তি করবে। “আমার মনে হয় আমরা তাদের সঙ্গে চুক্তি করব, তবে না-ও হতে পারে। ইরানের ব্যাপারে কিছুই নিশ্চিত না। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করি, আবার পরে হামলাও করতে হয়।”
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি দক্ষিণ লেবাননে ‘সিকিউরিটি জোন’ আরও বড় করার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
অপরদিকে, পোপ লিও চতুর্দশ ভ্যাটিকানে পাম সানডে উপলক্ষে কথা বলার সময় আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের বিষয়ে জড়িত নেতাদের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “যারা যুদ্ধ শুরু করে এবং যাদের হাত রক্তে ভরা, তাদের প্রার্থনা ঈশ্বর গ্রহণ করেন না”। বিবিসি

