ব্যক্তিতান্ত্রিক শাসনের অবসানের জন্যই জুলাই সনদ: ড. আলী রীয়াজ

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সিলেট
শেয়ার করুন

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জুলাই বিপ্লবে যাত্রাবাড়ীতে শহীদ সুহেলসহ প্রায় ১৪ শত শহীদের রক্ত আমাদের একটি স্পষ্ট দায়িত্ব দিয়েছে। সেই দায়িত্ব হলো ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচার ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি যে উদ্দেশ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবেন, তাদেরই বহন করতে হবে।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট-এর সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে সিলেট অঞ্চলের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ড. আলী রীয়াজ আরও বলেন, ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সকল দিকনির্দেশনা জুলাই জাতীয় সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বিদ্যমান সংবিধানের মাধ্যমে একক ব্যক্তির হাতে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে একক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নিয়োগ হয়।

প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ বলেন, কোনো এক ব্যক্তি যেন রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত না হন সেই লক্ষ্যেই এই গণভোট। প্রধান বিচারপতি কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ একক ব্যক্তির হাতে থাকবে কি না, সে সিদ্ধান্ত জনগণকে এই গণভোটের মাধ্যমেই নিতে হবে। তিনি অতীতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান বারবার কেবল একটি ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য সংশোধন করা হয়েছে যা আমরা আর দেখতে চাই না। এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই গণভোটের আয়োজন। তিনি বলেন, রক্তে লেখা জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে জনগণ আছেন কি না এই প্রশ্নের উত্তর জানতেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত অতিথিবৃন্দসহ উপস্থিত সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পরপর তিনটি বিতর্কিত ও অস্বাভাবিক নির্বাচনের পর জুলাই বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। আগামী দিনগুলো যেন আমাদের সন্তানদের জন্য আরও সম্ভাবনাময় ও নিরাপদ হয় সে লক্ষ্যেই আজকের এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সকলের সম্মিলিত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনমত গড়ে তোলা এবং মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. নিজাম উদ্দিন, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ, শাবিপ্রবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইসমাইল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জুরী কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মুহিবুল আহসান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির। মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার আ ফ ম মিফতাউল হক।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট অঞ্চলের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, ‍ডিনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *