শনিবার থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে দেশটি ওই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি ও মিত্রদের ওপর হামলা শুরু করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে দুবাইয়ে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি কনস্যুলেট ভবনে ইরান ড্রোন হামলা চালানোর পর সেখানে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। বিবিসি ভেরিফাই এই ছবির যাচাই করে সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
কনস্যুলেটের কয়েক মিটার দূর থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ড্রোনটি কনস্যুলেটে ওপরে আছড়ে পড়েছে। অন্য আরেকটি ভিডিওতে কম্পাউন্ডের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, একটি ড্রোন কনস্যুলেটের চ্যান্সেলারি ভবনের পাশের পার্কিং লটে হামলা করেছে। “আমাদের সব কর্মীরা নিরাপদে আছেন ও খোঁজ পাওয়া গেছে” বলে জানান তিনি।
কাতারে ইউএস বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
কাতারের ইউএস বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান দুইটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে এবং আরেকটি ইউএস বিমান ঘাঁটি আল উবেইদ থেকে প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। আল উবেইদ বিমান ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি। তবে, কোন হতাহতের খবর জানায়নি কাতার।
ইরানে দুই হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানে প্রায় দুই হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। একইসাথে ২০০৩ সালের ইরাক অভিযানের তুলনায় এই অভিযান প্রায় দ্বিগুন মাত্রার হয়েছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার জানিয়েছেন, তারা ইরানের ১৭টি জাহাজ ধ্বংস করেছে। ইউএস নেভির সিনিয়র এডমিরাল ব্রাড কুপার বলেছেন, “আজ পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী অথবা ওমান সাগরের কোথাও একটাও ইরানি জাহাজ নেই।”
৫০ হাজারের বেশি সেনা, দুইশো যুদ্ধবিমান, দুইটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং বম্বারের সমন্বয়ের এই অভিযান “এই প্রজন্মের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সেনা মোতায়েনের ঘটনা” বলে জানান মি. কুপার।
ছবি: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের একটি ভবনের সামনে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ সুত্র: বিবিস

