টাঙ্গুয়ার হাওরে ঢুকছে পানি, শঙ্কায় কৃষক

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের অরক্ষিত নজরখালী বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। টানা তিন দিনের বৃষ্টিপাতে বৌলাই ও পাটলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ২০২৬) ভোর থেকে বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে।

নজরখালী বাঁধসংলগ্ন গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা খসরুল আলম জানান, নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভোর থেকেই বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করছে।

টাঙ্গুয়ার হাওরের আওতায় উত্তর বংশীকুন্ডা ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের পুরো এলাকা এবং শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের একাংশ রয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ২০ হাজার একর জমি এ হাওরের অন্তর্ভুক্ত।

নজরখালী বাঁধের আওতায় সোনাডুবি, তেকুনিয়া, লামারবিল, বালর ডোবা, গইন্যাকুড়ি, হানিয়া কলমা, হাতিরগাতা, খাউজ্যাউরি, সামসাগর, চটাইন্না, রউয়্যা, রুপাভূই, মুক্তারখলা ও বাগমারা হাওর রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বহু বছর ধরে কৃষকেরা নজরখালী বাঁধটি পাউবোর তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকারি উদ্যোগ না থাকায় প্রতিবছর নিজেরাই চাঁদা তুলে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ করে থাকেন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তালিকাভুক্ত না হওয়ায় নজরখালী বাঁধ নিয়ে এবারও স্থানীয়দের উদ্বেগ বেড়েছে। বরাবরের মতো এবারও কৃষকেরা নিজেদের উদ্যোগেই বাঁধ রক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাহিরপুর উপজেলার ৮২টি গ্রামের কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

রুপনগর গ্রামের কৃষক আব্দুছ সালাম বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরটি রামসার সাইট হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে কাজ করে না। ফলে জমির ফসল রক্ষায় প্রতি বছর আমাদেরই বাঁধ নির্মাণ করতে হয়। প্রতি কিয়ার (৩০ শতক) জমির জন্য ৩০০ টাকা করে চাঁদা তুলে প্রায় ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে কাজ শুরু করা হয়।

শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার বলেন, কৃষকেরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধের কাজ করে থাকেন। প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও নজরখালী বাঁধটি পাউবোর আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

খসরুল আলম জানান, দুয়েক দিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধের কাজ শুরু করা হবে এবং প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘নজরখালী বাঁধটি পাউবোর তালিকাভুক্ত না থাকায় আমাদের পক্ষে এ বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব নয়।’ ইউএনবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *