অনুবাদ : মাসুম খলিলী
এক. অন্যের জন্য সুখী হলে তা আপনার নিজের সুখ কেড়ে নেবে না। যখন কারও কাছে আপনার চেয়ে বেশি থাকে, তার অর্থ এই নয় যে তিনি আপনার আশীর্বাদের অংশ পাচ্ছেন। যা আপনার তা আপনারই হবে। মহান আল্লাহ তা দেখবেন। সর্বদা অন্যের জন্য মঙ্গল কামনা করুন।
পূনশ্চঃ
এক. আন্তরিকতার আসল পরীক্ষা হল একজন ব্যক্তি আপনাকে সাহায্য করবে কিনা তা দেখা, যদিও জানেন যে বিনিময়ে তিনি কিছুই পাবেন না। সত্য হল যে কেউ সাহায্য করতে পারেন যখন কিছু লাভ করার থাকে; কিন্তু যখন বিনিময়ে কিছুই না থাকে তখন সাহায্য করা সত্যিকারের ভালবাসা এবং একটি সুন্দর হৃদয়ের প্রতিফলন।
দুই. আপনি কি কোন এক খাদে আটকে আছেন? আপনার প্রয়োজন অনুসারে বার বার চেষ্টা করুন। প্রচেষ্টাকে পূন:স্থাপন করুন, আবার বিন্যাস করুন। আপনার ফোকাস অর্জন না করা অবধি এটি চালিয়ে যান। প্রেক্ষিত হারানো বেশ সহজ আর আমাদের চারপাশে যা কিছু ঘটে চলেছে তাতে হতচকিত ও বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। আপনার উদ্দেশ্যকে সৎ ও আন্তরিক রাখুন। যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করুন!
তিন. সৌন্দর্য আপনি যা মনে করেন সেটি নয়। লোকেরা আপনার দিকে তাকিয়ে যা দেখে এটি অবশ্যই তা নয়। এটা তখন তারা খুঁজে পায় যখন অন্তরের গভীরে অবলোকন করে। ভেতরটা সুন্দর হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করুন।
চার. যখন আপনি কোন কিছুতে শেষ পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছেন তখন আপনার ঈমান পরীক্ষা করা হবে। বিশ্বাস রাখুন যে সর্বশক্তিমান আপনার সমস্যার বিকল্প সমাধান দিতে পারেন আর তাঁর পরিকল্পনা বুঝতে চেষ্টা করুন। নতুন সুযোগের সন্ধান করুন। প্রায়শই আমরা বন্ধ দরজাগুলিতে এমনভাবে ঝুলে থাকি যে সেখানে কী আছে তা দেখতে আমরা ব্যর্থ হই!
পাঁচ. রমজানের ৩০ দিনেরও কম সময় বাকি আছে, এখন আপনার দানের পরিকল্পনা শুরু করার উপযুক্ত সময়।
দ্রষ্টব্য:
আল্লাহর কাছে দেয়া অঙ্গীকার : আর স্মরণ করুন, যখন আপনার রব আদম-সন্তানের পিঠ থেকে তার বংশধরকে বের করেন এবং তাদের নিজেদের সম্বন্ধে স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন এবং বলেন, ‘আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলেছিল, ‘হ্যাঁ অবশ্যই, আমরা সাক্ষী রইলাম। এটা এ জন্যে যে, তোমরা যেন কিয়ামতের দিন না বল, আমরা তো এ বিষয়ে গাফেল ছিলাম। কিংবা তোমরা যেন না বল, আমাদের পিতৃপুরুষরাও তো আমাদের আগে শির্ক (অশীদার) করেছে, আর আমরা তো তাদের পরবর্তী বংশধর; তবে কি (শির্কের মাধ্যমে) যারা তাদের আমলকে বাতিল করেছে তাদের কৃতকর্মের জন্য আপনি আমাদেরকে ধ্বংস করবেন? (সূরা আল-আরাফ: ১৭২-১৭৩)
* মুফতি মনক (ডক্টর ইসমাইল ইবনে মুসা মেনক) ইসলামি স্কলার ও জিম্বাবুয়ের প্রধান মুফতি


