জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, আজ কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেয়া হয়। অথচ সংবিধানে ২০২৬ সালের নির্বাচন উল্লেখ ছিল না, সেটা সম্ভব হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণে। মনে রাখতে সংবিধানের জন্য জনগণ নয়, বরং জনগণের জন্যই সংবিধান। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) বিকেলে সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমীর হাফিজ মিফতাহুদ্দীন আহমদ ও ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোঃ আব্দূর রব, জাহেদূর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন এবং সিলেট মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু।
বাংলাদেশের সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ডা: শফিকুর রহমান এমপি বলেন, আমাদের দেশে অনেক সম্পদ রয়েছে। শুধুমাত্র চরিত্রের সম্পদের অভাবের কারণে আমরা কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ পাচ্ছি না। অথচ আমাদের দেশের সন্তানেরা পুরো বিশ্বে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। আমরা জাতির নেতৃত্বে মেধাবীদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বন্ধুপ্রতিম রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বলতেন নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। কিন্তু নির্বাচন হল, রাজনৈতিক দল সরকারে গেলেও কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতার দেখা মিলেনি। সমাজ থেকে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসা দূর হয়নি। নির্বাচিত সরকারের আমলে মব সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিদায় হতে হয়েছে। প্রথমবারের মতো দলীয় বিবেচনায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে গভর্ণরের পদে বসানো হয়েছে। দেড় বছর কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-প্রো-ভিসিদেরকে বিদায় করতে বাধ্য করে সেই পদে সম্পূর্ণ দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। ঈদ যাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও চরম অব্যবস্থাপনা দেখে জাতি হতাশ হয়েছে।

সংস্কার প্রস্তাবকে এড়িয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, সরকারি দলকে মনে রাখতে হবে দীর্ঘ ১৫ বছর আমাদের সাথে আপনারাও মজলুম ছিলেন। আমরা বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবো। জনগণের প্রত্যাশা পূরণকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিবো। নির্বাচনী ফলাফলকে আমরা মেনে নিয়েছি এর অর্থ এই নয় যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
জামায়াত আমীর বলেন, অনেকেই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের দোহাই দিয়ে উধোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে চান। অথচ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের কারণে আমাদের দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নেয়া হয়। একের পর এক শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দেয়া হয়। কিন্তু আমরা কোন শক্তির সাথে আপোস করিনি। মাথা উঁচু করে রাজনীতি করেছি। আমাদের এই পথ চলা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের রাজনীতি এই দেশে আর চলবে না। কারণ জনগণ পরিবর্তন চায় বলেই গণভোটে রায় দিয়েছে। সেই রায় বাস্তবায়ন করতেই হবে। আমাদেরকে হতাশ হওয়া চলবে না। কারণ মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের পথচলা থামবে না। এবার হয়নি আল্লাহ চাইলে পরবর্তীতে জনতার বিজয় হবে। সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

