ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের ভাষণ বর্জন করেছে বিরোধী দল। “জুলাইয়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর” শ্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এক পর্যায়ে শ্লোগান দিতে দিতে তারা ওয়াক আউট করে সংসদ থেকে বেরিয়ে যান। এভাবে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টা ৫ মিনিটে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বক্তব্যের জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের ঘোষণা দেওয়া হলে জামায়াতের ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের এমপিরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান।
বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও উপনেতা ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কথা বলতে চাইলেও স্পীকার তাদের মাইক অন করে কথা বলার সুযোগ দেননি। এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। তারা ‘গেট গেট গেট আউট, কিলার চুপ্পু গেট আউট’, ‘গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ, এক সাথে চলে না’ স্লোগান এবং “জুলাইয়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর”, ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি চলবে না’ লেখা লাল রঙের কার্ড প্রদর্শন করেন।
সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করলে প্রচলিত রীতিতে সংসদ নেতা ও সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। তবে বিরোধী দলের সদস্যদের একটি অংশ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নিজেদের আসনে বসে থাকেন।
এ সময় বিউগলে জাতীয় সংগীত বাজতে শুরু করলে জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ বন্ধ রেখে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদে তার ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলের সদস্যরা উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া সংবিধান অনুযায়ী একটি বাধ্যবাধকতা। স্পিকার বলেন, “আমরা সংবিধানের বিধান ও জাতীয় সংসদের রেওয়াজ অনুসরণ করতে চাই। দয়া করে আপনারা খারাপ কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন না।”
তবে স্পিকারের আহ্বানের মধ্যেই বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান আর সংসদে ফিরে আসেননি। সংসদ থেকে বেরিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা সরকারি দলকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, স্পিকারকেও অনুরোধ করেছিলাম- রাষ্ট্রপতিকে যেন ভাষণ দিতে না দেওয়া হয়। তারা আমাদের কথা গ্রাহ্য করেননি। তাই আমরা ক্ষুব্ধ হয়ে বের হয়ে এসেছি। আগামীতে এই সংসদে কোনো অন্যায় মেনে নেবো না। আমরা জনগণের স্বার্থ ও অধিকারের পক্ষে লড়াই করে যাবো।
তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রপতিকে আমরা দফায় দফায় প্রত্যাখ্যান করেছি, অস্বীকার করেছি। গত দেড় বছর থেকে আমরা দফায় দফায় রাষ্ট্রপতির নীতিগত বৈধতা অস্বীকার করেছি। এই সংসদ কারও একার নয়, ১৮ কোটি মানুষের সংসদ। জনগণের অধিকারের জন্য লড়াই করতে এসেছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই রাষ্টপ্রতি তিনটা কারণে অপরাধী। প্রথম কারণ, তিনি সব খুনের সহযোগী ছিলেন। দ্বিতীয়ত, তিনি ২০২৪ সালের আগস্টের ৫ তারিখ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা মঞ্জুর করেছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তিনি জাতির সামনে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন। তৃতীয় কারণ, রাষ্ট্রপতি নিজের হাতে অর্ডিন্যান্স স্বাক্ষর করেছেন। নির্বাচনে দুটি ভোট হবে, এতে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবে তারা সংস্কার সংশোধন পরিষদের সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হবেন। একই দিনে উভয় শপথ একই ব্যক্তি পড়াবেন। এই শপথ দুটি আমরা নিলেও সরকারি দল নেয়নি।

