অযোধ্যার পর এবার কাশী-মথুরার মসজিদেও দাবি যোগী আদিত্যনাথের

এশিয়া সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

রূপসা সেনগুপ্ত বিবিসি নিউজ

ভারতে অযোধ্যা, কাশী ও মথুরা – এই তিনটি জায়গায় প্রাচীন মসজিদ সরিয়ে দিয়ে মন্দির বানানোর যে দীর্ঘ দিনের দাবি হিন্দুত্ববাদীদের, এবারে উত্তরপ্রদেশ রাজ্য বিধানসভায় তারই প্রতিধ্বনি করলেন ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ।

অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার পর থেকেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা বজরং দলের মতো সংগঠনগুলি স্লোগান দিয়ে আসছে, ‘ইয়ে তো সির্ফ ঝাঁকি হ্যায়, কাশী-মথুরা বাকি হ্যায়!’ যার অর্থ, এটা তো শুধু একটা ধাক্কা ছিল – এরপর আমরা কাশী-মথুরাকে ধরব!

অযোধ্যাতে যেমন বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির বানানোর জন্য আন্দোলন চলছিল, তেমনি কাশী বা বারাণসীতে জ্ঞানবাপী মসজিদ ও লাগোয়া কাশী-বিশ্বনাথ মন্দির এবং মথুরাতে শাহী ইদগাহ মসজিদ ও সংলগ্ন শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির প্রাঙ্গণও ছিল একই রকম বিতর্কিত ধর্মীয় স্থান।

প্রসঙ্গত, ভারতের এই তিনটি শহরই উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে অবস্থিত। এখন ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করলেন অযোধ্যার পর কাশী-মথুরাতেও মসজিদের জায়গায় মন্দির গড়ার দাবিতে তার সায় আছে – এবং তার সরকার সেই দাবি বাস্তবায়ন করতে চায়।

গত ২২শে জানুয়ারি রামমন্দিরের ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ এবং কেন্দ্রের পাশাপাশি একাধিক রাজ্যর ওই দিন সরকারি ছুটি ঘোষণাকে ঘিরে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা যখন একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি, সে সময়ে আদিত্যনাথের বক্তব্য নতুন ভাবে সেই বিতর্ককে উস্কে দিয়েছে।

অযোধ্যা, বারাণসী এবং মথুরার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বুধবার উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “আমরা মাত্র তিনটি জায়গা চেয়েছি। অন্য জায়গা নিয়ে কোনও সমস্যা হয়নি।”

“ওই তিনটি স্থল চাওয়া হচ্ছে এবং তার কারণ এগুলো কোনও সাধারণ জায়গা নয়। এগুলি বিশেষ স্থান। ঈশ্বর অবতীর্ণ হয়েছেন ওই স্থানগুলিতে।”

যোগী আদিত্যনাথের অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ওই তিনটি জায়গার সঙ্গে ‘অবিচার’ করা হয়েছে। যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “অযোধ্যার সঙ্গে অবিচার হয়েছে। কাশীর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে, মথুরাতেও তাই হয়েছে। আটকে দেওয়া হয়েছে, এই জায়গাগুলোর উন্নয়ন।”

‘আমরা মাত্র তিনটে জায়গা চেয়েছি’

কিছু দিন আগে ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বা আর্কিওলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) তার রিপোর্টে জানিয়েছে, জ্ঞানবাপী মসজিদের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ এবং স্থাপত্যের অবশেষ, বৈশিষ্ট্য, নিদর্শন, শিলালিপি, শিল্প ও ভাস্কর্যের অধ্যয়নের উপর ভিত্তি করে বলা যায় বর্তমান কাঠামো নির্মাণের আগে সেখানে একটা হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব ছিল।

অন্যদিকে, মথুরায় কৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির সংলগ্ন শাহী ইদগাহ মসজিদ ঘিরে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। হিন্দু মন্দিরের জমিতে ওই মসজিদ তৈরি হয়েছে এই দাবি জানিয়ে শাহী ইদগাহ অপসারণের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে হিন্দু পক্ষ। আপাতত, তাদের পাখির চোখ যে এখন কাশী এবং মথুরা সে কথাই সরকারি ভাবে জানিয়ে দিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার।

মহাভারতের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অন্যায়ের কথা বলতে গেলে আমাদের পাঁচ হাজার বছর আগের কথা বলতে হয়। সেই সময় পাণ্ডবদের প্রতিও অবিচার করা হয়েছিল। সেই সময় কৃষ্ণ কৌরবদের কাছে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মাত্র পাঁচটি গ্রাম আমায় দাও, বাকিটা তোমাদের কাছে থাক।”

যোগী সরকারের বক্তব্য, পাঁচের পরিবর্তে তাদের দাবি দাওয়া ‘মাত্র তিনটি’ স্থানকে ঘিরে। তার এই মন্তব্য কিন্তু আরও একবার ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের বিতর্ককে উস্কে দিয়েছে, যে বিতর্ক অযোধ্যায় রাম মন্দিরের রামের বিগ্রহের ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’কে ঘিরে ইতিমধ্যে তুঙ্গে।

‘এই তিনটি জায়গা দীর্ঘদিনের টার্গেট’

রাম মন্দিরের বিগ্রহের ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’, কাশীতে জ্ঞানবাপী মসজিদের নীচে ভূগর্ভস্থ কক্ষে পূজা শুরু এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের এই মন্তব্য এবং সেগুলির ঘটনাক্রম যে বিশেষ ইঙ্গিতবহ, সে কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিশ্লেষক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, “অযোধ্যা, মথুরা এবং কাশী দীর্ঘদিন ধরে হিন্দুত্ববাদীদের লক্ষ্য। বাবরি মসজিদ ভাঙার পর তাদের যে স্লোগান, ‘অযোধ্যা এক ঝাঁকি হ্যায়, মথুরা-কাশী বাকি হ্যায়’ আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।”

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বা আর্কিওলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)-এর জ্ঞানবাপী মসজিদ সমীক্ষার রিপোর্ট জনসমক্ষে আনার নির্দেশ দেয় বারাণসীর জেলা আদালত ২৪শে জানুয়ারি। পর দিন সেই রিপোর্ট জনসমক্ষে আসে। এরপর ৩১শে জানুয়ারি ওই আদালতের বিচারক ভূগর্ভস্থ একটি কক্ষে হিন্দুদের পূজা করার অনুমতি দেন। সেই রাতেই ভূগর্ভস্থ কক্ষে পূজা শুরু হয়ে যায়।

মথুরাতে শাহী ইদগাহ এবং কৃষ্ণ জন্মভূমিকে ঘিরে হিন্দু এবং মুসলিম পক্ষের সংঘাত দীর্ঘদিনের। মামলাও চলছে বহুদিন। ২০২২ সালে এই স্থানটিকে কৃষ্ণ জন্মভূমি হিসাবে ঘোষণা করার লক্ষ্যে আরেকটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি জনৈক অজয় প্রতাপ সিংহের দায়ের করা আরটিআইয়ের উত্তরে এএসআই এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানিয়েছে।

“চলতি মাসে এএসআই একটি আরটিআইয়ের উত্তরে জানিয়েছে, মথুরার শাহী মসজিদ ইদগাহ তৈরি হয়েছিল কেশব দেবের মন্দিদের উপর। অর্থাৎ, সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে, বারাণসী এবং মথুরা দুই জায়গাতেই আগে মন্দির ছিল, সেটা ভেঙে মসজিদ হয়েছে,” বলেছেন, মি ভট্টাচার্য।

ঐতিহাসিক প্রমাণ

জ্ঞানবাপী মসজিদ এবং শাহী ইদগাহ জায়গায় হিন্দু মন্দির যে ছিল, তার অবশ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ মিলেছে বলেই বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। “এটা ঠিক যে ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে, কাশী বিশ্বনাথ মন্দির আর কেশবদেব মন্দির ঔরংজেবের নির্দেশে ভাঙা হয়েছিল। ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিবও এ কথার উল্লেখ করেছেন। তার জায়গায় জ্ঞানবাপী আর শাহী ইদগাহ মসজিদ হয়েছিল”, বলছেন মি ভট্টাচার্য।

তবে যোগী আদিত্যনাথের বক্তব্য সমালোচনা এড়াতে পারেনি। পুরাণ বিশারদ এবং ঐতিহাসিক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে এটাও বলা যায় যে যিনি এই কথাগুলো বলছেন এবং যেভাবে বলছেন, তাতে তিনি হিন্দু রাজার মতো আচরণ করছেন।”

“অযোধ্যা পেয়ে গেছি, এবার মথুরা এবং কাশী চাই – একথা তিনি এমন ভাবে বলছেন যেন মুঘল সাম্রাজ্যের সঙ্গে তার যুদ্ধ চলছে। তারা যে রাজ্যগুলো শাসন করতেন, সেগুলি তিনি একে একে উদ্ধার করছেন।”

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর আচরণের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, “যোগী আদিত্যনাথ, এই (সন্ন্যাসীর) পোশাক না পরলেই পারেন। যোগীরা তো সর্বদাই সন্তুষ্ট থাকেন। কিন্তু এই যোগী সবার উপর ক্রোধিত।”

“অযোধ্যা লাভ হয়ে গিয়েছে, এবার মথুরা, কাশী চাই। এটা যোগীর ব্যবহার নয়, হিন্দু রাজার ব্যবহার। যখন মুঘলরা ছিলেন তখন যদি দখল করতে পারতেন, তাহলে না হয় কথা কথা ছিল। কিন্তু এই যুগে পুনরুদ্ধারের অর্থ কী?”

আদালতে চলা মামলা, তার রায় এবং তার পরবর্তী কর্মকাণ্ডের ঘটনাক্রমের প্রসঙ্গ টেনে নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী বলেন, “এ যুগে পুনরুদ্ধারের পদ্ধতি হল আদালতে মামলা হবে, রায় আসবে এবং ধীরে ধীরে তারা সেটা দখল করবে।” “আর দখলের অর্থ হল, মসজিদ ভেঙে ফেলা। পুরোটাই তো ভারতবর্ষ। এখানে দখলদারিত্বের তো কোনও প্রশ্ন নেই!”

ভারতের ইতিহাসে যে ভাবে হিন্দুদের মন্দির মন্দির ভাঙা হয়েছিল, বর্তমানে সেই ঘটনার ঠিক বিপরীত ছবিটা প্রকাশ পাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার কথায়, “মুসলিম রাজারা এক সময় যে ভাবে হিন্দু মন্দির ভেঙেছে, এখন ঠিক তার উল্টোটা হচ্ছে। সে সময় হিন্দুরা যে কষ্ট পেয়েছিলেন, আমরা ঠিক সেটাই দিতে চাইছি উল্টো দিক থেকে।”

পুরো বিষয়টিতে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে, এমনটাই জানিয়েছেন ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম উইমেন পার্সোনাল ল বোর্ডে’র প্রেসিডেন্ট শাইস্তা আম্বর। তার কথায়, “এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অন্য সম্প্রদায়কে উস্কে দেওয়ার ঘটনাটা আজকের নয়। দু’ই ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ ভারতের ধর্ম এবং সংস্কৃতি এ দেশের ঐতিহ্য। পুরো বিশ্বের কাছে ভারত একটা বড় উদাহরণ।”

রামমন্দিরের ইস্যুতে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে যখন বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে, সে সময়, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য আরও একবার সেই প্রশ্ন উস্কে দিয়েছে। নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী বলেন, “মুসলিম সম্রাটদের সময় এককালে যে অন্যায় হয়েছিল, তার জবাব অন্যায় দিয়েই দিতে চাইছে এই যুগে, একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র !”

সুদূর বিস্তৃত প্রভাব

মন্দির পুনর্নির্মাণের বিষয়টি অযোধ্যা, মথুরা এবং কাশীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এমনটাই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্যের কথায়, “ভারত জুড়ে ১০০টিরও বেশি মসজিদ এবং ইসলামিক স্থাপনা রয়েছে, যেখানে পুরনো হিন্দুদের স্থাপত্য ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রথম মহানির্দেশক স্যার আলেকজেন্ডার কানিংহামের লেখায় এবং অন্যান্য ঐতিহাসিকদের লেখায় এর একাধিক উল্লেখ রয়েছে।”

“সে সময় বড় স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে আশেপাশে থাকা পুরানো কাঠামোর ভেঙে যাওয়া অংশ ব্যবহার করার প্রবণতা ছিল।” “কারণ নির্মাণের কাজে ব্যবহার করার মতো পাথর বা অন্যান্য অংশ হাতের কাছে পাওয়া গিয়েছে। এই কারণে ভারত জুড়ে একশোরও বেশি ইসলামিক কাঠামোতে হিন্দু স্থাপত্য ব্যবহার করা হয়েছে।”

“একই ভাবে হিন্দুদের মন্দিরেও বৌদ্ধ মন্দিরের অবশেষ ব্যবহার করা হয়েছে, সে নজিরও রয়েছে।” এ প্রসঙ্গে, উত্তরপ্রদেশের বাগপতে লাক্ষাগৃহ-মাজার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে আইনি লড়াই চলছিল, তার উল্লেখ করেছেন মি ভট্টাচার্য। “গত পাঁচই ফেব্রুয়ারি আদালত রায় দিয়েছে, হিন্দু পক্ষের হাতে ওই মাজার তুলে দিতে হবে। ওইখানেই না কি মহাভারতের লাক্ষাগৃহ ছিল।”

“অন্য দিকে, মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় অবস্থিত একটি মসজিদকে ঘিরেও একইভাবে টানাপোড়েন চলছে। অর্থাৎ যে যে ইসলামিক স্থাপত্যে হিন্দু বা বৌদ্ধ স্থাপত্যের নিদর্শন রয়ে গিয়েছে, সেগুলোকে কেন্দ্র করে মন্দির পুনর্নির্মাণ আন্দোলন কিন্তু আবারও গড়ে উঠবে”, মন্তব্য মি ভট্টাচার্যর।

ভোটের লড়াই

এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করেছেন বিশ্লেষক এবং অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে একটা ভারসাম্য থাকা উচিত। রাম মন্দির নিয়ে আরএসএস-এর অবস্থানটায় বরং ভারসাম্য রয়েছে। তারা বলেছে, রাম মন্দির আমাদের একটা বড় ইস্যু ছিল, সেই প্রতিশ্রুতি আমরা পালন করেছি।”

“কিন্তু তাদের যে রাজনৈতিক শাখা রয়েছে, অর্থাৎ বিজেপি – তারা ইতিমধ্যে রাম মন্দিরকে ঘিরে লভ্যাংশ পেয়ে গিয়েছে। এরপর নতুন কী থাকতে পারে? হিন্দু ভোট পেতে তাই তারা কাশী-মথুরার কথা বলছে।” ধর্মীয় মেরুকরণের প্রভাব যে শুধুমাত্র অযোধ্যা, কাশী, মথুরা বা আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আবহে সীমাবদ্ধ থাকবে না, সে বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, “এর ফলস্বরূপ দেশের ভিতরে এবং বাইরে একটা বড় ধরনের প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হবে বিজেপিকে। হিন্দুত্বের এজেন্ডাগুলো যদি বাড়তে থাকে তাহলে সামাজিক বিভাজন হবে।” “সেখান থেকে উত্তেজনা এবং অস্থিরতা তৈরি হবে এবং সেই অস্থিরতা থেকে শুধু সামাজিকভাবে ন্য, ভৌগোলিক এলাকাও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে যদি এই ধরনের অভিযান চলতে থাকে।”

আগামী লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরেই যে বিজেপি তার লক্ষ্য স্থির করছে, সে কথা বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। “দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির একটা বড় ইস্যু ছিল রাম মন্দির। সেই ৯০-এর দশক থেকে সেটাকে সামনে রেখেই তারা নির্বাচনে আসন জিতেছে। এবার রাম মন্দিরের প্রতিশ্রুতি তারা পূরণ করেছে।”

“কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তও বহাল রয়েছে, এ ছাড়া জনমুখী কাজও করেছে, যেমনটা রাজনৈতিক দলগুলি করে থাকে,” বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র। “তারা ভাবছেন, যে সময় তারা রাম মন্দির উদ্বোধন করেছেন, সেটাকে ঘিরে যে ধর্মীয় উন্মাদনা যা থেকে ভোট আসতে পারত, সেটা ভোটের আগে পর্যন্ত টানতে পারবে কি না। কারণ মানুষ তাড়াতাড়ি ভুলে যায়।”

“এই মুহূর্তে রাম মন্দিরের মতো একটা বিষয় জাগিয়ে রাখতে গেলে মথুরা-কাশীকে তাদের টেনে আনতে হবে”, মন্তব্য মি মৈত্রর।

* ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানসিতে জ্ঞানবাপী মসজিদ ছবি: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *